উদ্দীপক-
হাশেম সাহেব ধান চাষের জন্য ১ শতাংশ জমিতে বীজতলা তৈরি করলেন। সঠিক মাপে বীজতলা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সার ও পানি। সরবরাহ করলেন। পোকামাকড় দমন করে তিনি সবল ও সতেজ। চারা তৈরি করলেন।
ক. দাপোগ বীজতলা কি?
খ. বীজতলায় রাসায়নিক সার ব্যবহার না করা উত্তম কেন?
গ. হাশেম সাহেবের ১ শতাংশ জমির জন্য বীজ তলার চিত্র এঁকে বর্ণনা করো?
ঘ. উদ্দীপকের বীজতলার পরিচর্যা ব্যাখ্যা করো?
প্রশ্নের উত্তর-
ক) বন্যার কারণে বীজতলা তৈরির জমির অভাবে তৈরিকৃত ভাসমান বীজতলাকে দাপোগ বীজতলা বলে।
খ) পানির উপর বীজতলার জমি হতে হয় উর্বর। কেননা বীজতলায় বীজ ছিটিয়ে সুস্থ সবল চারা উৎপাদন করতে হয়। অনেক সময় জমি অনুর্বর হলে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়। তবে রাসায়নিক সারের ব্যবহার। ফসল ও মাটির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করা না হলে এটি চারাগাছ গজাতে অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণেই বীজতলায় রাসায়নিক সার ব্যবহার না করাই উত্তম।
অর্থাৎ শাকসবজি উৎপাদন অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিশেষভাবে লাভজনক এবং গুরুত্বপূর্ণ।
গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত হাশেম সাহেব ১ শতক জমিতে একটি বীজতলা তৈরি করলেন। নিচে হাশেম সাহেবের জমিতে তৈরিন্দৎ বীজতলার নকশাটি বর্ণনা করা হলো-
স্বীজতলার আকার ১০ মিটার ৪ মিটার জায়গার মধ্যে নালা বাচ এক শতক জমিতে দুই খণ্ডের বীজতলা তৈরি করবে। প্রতিটি দিয়ে ৯.৫ মিটার = ১.৫ মিটার হবে। বীজ তলার চারদিকে ২৫ সেমি জায়গা বাদ দিতে হবে এবং দই খন্ডের মাঝখানে ৫০ সেমি. জায়গ নালার জন্য রাখতে হবে।
২৫ সেমি করে।
চিত্র: এক শতক জমিতে ধানের বীজতলার নকশা
ঘ) উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী হাশেম সাহেব ধান চাষের জন্য ১ শতাংশ জমিতে বীজতলা তৈরি করলেন। যথাযথভাবে পরিচর্যা করার ফলে তিনি সবল ও সতেজ চারা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন নিচে বীজতলার যথাযথ পরিচর্যা ব্যাখ্যা করা হলো-
১. পাখি যাতে বীজতলার বীজ খেতে না পারে সেজন্য বপনের সময় থেকে ৪-৫ দিন পর্যন্ত পাহারা দিয়ে পাখি তাড়ানোর ব্যবস্থ করতে হবে।
২. বেড যাতে শুকিয়ে না যায় সেজন্য দুই বেডের মাঝের নালায় পানি রাখার ব্যবস্থা করতে হয়।
৩. এরপর নালা থেকে প্রয়োজনীয় পানি বেডে সেচ দিতে হয়।
৪. বীজতলায় আগাছা জন্মালে তা তুলে ফেলতে হয়।
৫. রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে তা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬. বীজতলার চারাগুলো হলদে হয়ে গেলে প্রতি বর্গমিটারে ৭ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।
৭. ইউরিয়া প্রয়োগের পর চারাগুলো সবুজ না হলে গন্ধকের (সালফার) অভাব হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বীজতলায় প্রতি বর্গমিটারে ১০ গ্রাম করে জিপসাম সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
৮. অতিরিক্ত ঠান্ডায় বীজতলায় চারাগুলো ক্ষতি হতে পারে। তাই রাতে পলিথিন দ্বারা চারাগুলো ঢেকে দিনের বেলায় খোলা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে চারার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।