আমাদের জীবনযাত্রার মান আরো উন্নয়ন করতে হলে প্রথমতো আমাদেরকে স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে।কারণ আমাদের সুস্বাস্থ্য বজায় থাকলেই আমরা চারপাশের পরিবেশ ভালো রাখতে পারবো এবং নিজেদের উন্নয়ন করতে পারবো।আর এই সুস্বাস্থ্য এর জন্য প্রয়োজন প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাবার।আমাদের দেহ প্রতিদিন দৈহিক পুষ্টি পেলেই আমরা স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠবো।এছাড়া ভালো খাবার ব্যাবস্থা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে সহায়তা করবে।
মূলত দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের জন্য সঠিক খাবার ব্যাবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করা প্রয়োজন।এছাড়া দেহের জন্য রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরো বৃদ্ধি করারর জন্য সঠিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন খাওয়া দরকার।আজকের লেখাতে এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করার ক্ষুদ্র পরিসরে লিখবো।
সুস্বাস্থ্যের জন্য যা খাবেন-
নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখার জন্য আমরা কত কিনা করে থাকি, আমরা খরচ করে হলেও জিম করে হলেও নিজেকে ফিট রাখতে চাই বা সুস্বাস্থ্যবান হতে চাই।তো নিম্নে কিভাবে কিছু খাবার খেয়ে সেই স্বাস্থ্য ঠিক রাখবেন এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবেন তাই লিখবো।
দুধ জাতীয় খাবার-
পর্যাপ্ত পরিমাণে আমিষ, ভিটামিন, চর্বি ও ক্যালসিয়ামের এক অন্যতম উৎস হচ্ছে দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্যগুলা।আর দুধকে তো আদর্শ খাবারও বলা হয়।এটি আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী খাদ্য উপাদান।
দুধের মধ্যে বিদ্যমান ফ্যাট আমাদের শরীরে শক্তি হিসেবে জমা থাকে।আর এর ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে থাকে।
দুধের উৎপন্ন পণ্য পনির খেলে হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি ঘটে।এছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিদের হাড়ের ক্ষয় অনেকটা রোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
আরেকটা পণ্য দই আমাদের হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।এছাড়া শক্তি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
আমিষ জাতীয় খাবার-
সামুদ্রিক মাছ বা পুষ্টিসমৃদ্ধ বিভিন্ন মাছে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিনের সোর্স।যা আমাদের হৃদরোগ, শরীরের পেশি গঠন প্রভৃতি কাজে সহায়তা করে থাকে।
আবার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড, মস্তিষ্কের স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ, মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা এগুলোর জন্য ডিমের গুণ দরকার হয়।
এছাড়া বিভিন্ন ডাল, যেমন- মুগ, মসুর ডাল প্রভৃতি থেকে আাসা প্রোটিন দেহের সার্বিক কাজে সহায়তা করে।
ফলমূল খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা-
আমাদের প্রতিদিন অত্যন্ত একটি হলেও ফল খাওয়া আবশ্যক।এতে আমাদের শরীর দেহের ঘাটতি পূরণে সক্ষম হবে।যেমন-
পর্যাপ্ত আয়রনের জন্য দৈনিক ২-১ টি কলা খাওয়া দরকার।
আবার ভিটামিন-সি এর অভাব পূরণে মাল্টা, কমলা বা লেবু খাওয়া জরুরি।এতে দেহের ত্বক ভালো থাকবে ও ভিটামিন এর চাহিদা পূরণও হবে।
রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দৈনিক বা নিয়ম করে কিছু দিন পরপর একটি করে আপেল খাওয়া দরকার।অথবা এক্ষেত্রে আপনি পেয়ারা ও পেঁপেও খেতে পারেন।
বিভিন্ন শাক খান-
বিভিন্ন ফল খাওয়ার পাশাপাশি অবশ্যই আপনাকে নিয়মিত সবুজ শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
কারণ রঙিন সবজি বা সবুজ শাকে রয়েছে ফাইবার, বিভিন্ন ভিটামিন, আয়রন ও প্রোটিন।
তাই ভালো থাকতে নিয়মিত শাক খাবেন।যেমন- কমলি, পালংশাক, পুই শাক, টাটা শাক, লাল রঙের শাক, লাউ শাক প্রভৃতি।
এছাড়া বীজ জাতীয় শস্য খাবেন-
যেমন- আখরোট, বাদাম, আলু প্রভৃতি।এগুলোর পুষ্টি গুণও আমাদের জন্য খুব উপকারী।
পানি পান করুন-
দেহের ডিহাইড্রেশন, ওজন নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতির জন্য নিয়মিত পানি পান করতে হবে।এছাড়া শরীরের গৃহীত খাবার হজমের জন্য এবং শক্তি উৎপাদনের জন্যও পানির প্রয়োজন আছে।
সুস্থ থাকার জন্য আপাতত এগুলা খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করুন আর শারীরিক কাজ করুন।আর মানসিক চাপ মুক্ত পর্যাপ্ত ঘুম দিবেন।
তাহলে আশা করি, আপনি ফিটনেস ধরে রাখতে পারবেন এবং আরো ভালো ফিট হবেন আগের থেকে।