পেটের মেদ কমানোর উপায় জানুন-
আপনি হয়ত নিজের অতিরিক্ত ভুড়ি থাকা নিয়ে চিন্তিত অথবা আপনাকে বেশি মোটা হওয়ার জন্য মানুষের মাঝে নিজেকে কম্ফোর্ট মনে হয় না।তাই এই অতিরিক্ত মেদ কমানোর জন্য মনে মনে ভাবছেন আর ঘাটাঘাটি করছেন যে কিভাবে স্লিম ও ফিট হওয়া যায়।কিংবা মোটামুটি স্বাস্থ্য কমানোর প্রচেষ্টা করতে চাচ্ছেন।তাহলে আজকের আর্টিকেলটা আপনার জন্যই লিখে হচ্ছে, কারণ এখানে মেদ কমানোর পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করবো।আশা করি পোস্ট পড়ে আপনার একটু হলেও উপকার হবে।নিম্নে আমি কয়েকটি পয়েন্ট আকারে বিষয়গুলা বুঝতে চেষ্টা করবো।
১. খাদ্য উপাদান পরিবর্তন করুন-
আপনি যেসকল অস্বাস্থ্যকর খাবার উপকরণ খাচ্ছেন, সেগুলো প্রথমেই বাদ দিন।নাহলে ভাই আপনার এই রসিক ভুঁড়ি আর কমবে না।যেমন- অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার, ভাজা-ফোড়া খাওয়া, প্রতিদিন গরু বা খাসির মাংস খাওয়া, কোমল পানি বা সেভনআপ খাওয়া, অতিরিক্ত মিষ্টি বা পায়েস খাওয়া।এগুলা খাবার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস থেকে পরিহার করে ফেলেন।আর ফাইবারযুক্ত খাবার খান, আটার রুটি বা লাল চাল, প্রচুর পরিমানে সবুজ রঙের শাক-সবজি খাবেন, সবুজ ফল-পাকুড় খান।এছাড়াও গ্রিন-টি, বাদাম, কাঁচা রসুনের কোয়া প্রভৃতি খাবার গ্রহণ করুন।রাতে নিয়মিত ভাত বা বেশি পরিমাণে শর্করা যোগায় এমন খাদ্য ত্যাগ করে কয়েকটি করে রুটি খাওয়ার নিয়ম করুন।খাবার খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে না পড়ে বা ১-২ মিনিট বসে পানি খেয়ে ২-৩ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে ১০-২০ মিনিটের মতো হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারেন।কারণ খাবার গ্রহণের পর তা সঠিকভাবে হজম ক্রিয়া না ঘটলে মেদ বা চর্বি জমে থাকে, যা পরবর্তীতে ভেঙে আমাদের দেহে খাদ্যের অভাব পূরণের কার্যক্রম করে।কিন্তু খাবার গ্রহণ করতে থাকলে এমন কাজে বিঘ্ন ঘটে, তাই হাটাহাটির প্রয়োজন আছে।আর নিয়মিত ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠতে পারলে আপনি হালকা গরম পানি খেতে পারেন।তাছাড়া অতিরিক্ত ঝাল খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটাও কাজে লাগান।বেশি বেশি মরিচ দিয়ে খাবার গ্রহণ করুন।তবে বেশি পরিমাণে মসলা ব্যবহার না করে হালকা করে মসলা দিয়ে রান্না করুন।আর একবারে বেশি করে না খেয়ে ৩-৪ বার করে দিনে কম কম করে খাবার গ্রহণ করার অভ্যাস করতে হবে।শর্করার পরিমাণ কমিয়ে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ান।চা-তে চিনি কম দিন তবে একদম চিনি ব্যতীত চা খাওয়ার প্রচেষ্টা রাখুন।
২. মানসিক চাপ থেকে যতটা দূরে থাকুন-
আমাদের শরীর তখনই সুস্থ ও সবল বা ফিট থাকবে যখন আমরা মানসিকভাবে ফিট বা মনের দিক থেকে অসুখ মুক্ত থাকবো।কারণ অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে আমাদের শরীর রোগা কিংবা অতিরিক্ত মোটা হলে তার চিন্তা করলে আমাদের স্বাস্থ্য ঐদিকে আরো খারাপ হয়ে যায়।তাই যেকোনো সমস্যায় আমাদের উচিত মানসিক উদ্বেগ যতটুকু সম্ভব দূরে সরিয়ে দেওয়া।আর মন থেকে এসব নিয়ে চিন্তিত না হওয়া।তাহলে দেখা যাবে আমরা আপনাআপনি ফিট হয়ে যাবো বা ঐ কাজের জন্য পারফেক্ট হয়ে যেতে পারি।
৩. ঠিক সময়ে ঘুমান-
বর্তমান সময়ে আমাদের সকলেরই একটা কমন সমস্যা হচ্ছে আমরা রাতে দেরিতে ঘুমাই।এটা যে আমাদের শরীর বা মানসিক অবসাদের জন্য কতটা খারাপ প্রভাব ফেলে তা অজানা।তাই আপনার দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে হলে স্বাস্থ্য সম্পন্ন রুটিন মেনে চলতে হবে।নাহলে হবে নারে ভাই।এজন্য প্রতিদিন রাতে নিয়মিত ১০-১১ টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে হবে।
৪. কর্মক্ষমতা কাজে লাগানো-
শুধু শুয়ে-বসে না থেকে শারীরিক কাজের মধ্যে থাকুন।আর যদি একদমই শারীরিক কাজ না থাকে তাহলে নিয়ম করে দৈনিক ৩০-৩৫ মিনিট হাঁটুন বা দৌড়ান।এছাড়াও নিয়মিত ব্যায়ামেট ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রতিদিন রুটিন করে সকালে কিংবা বিকালে ব্যায়াম করুন।যেমন- পুশ করা, হাতের বাহুর ব্যায়াম।আপনি যদি একজন মুসলমান হয়ে থাকেন তাহলে ভাই নামাজ পড়ার অভ্যাস করুন।কারণ দৈনিক পাঁচবার নামাজ আদায় করলেও আপনার একপ্রকার ব্যায়াম করা হয়ে যাবে।
আশা করি এতেই আপনার মেদ অনেকাংশেই কমে যাবে।