প্রশ্ন-
ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজানে এক রাতে কিছু বিপথগামী তরুণের সশস্ত্র আক্রমণে ২২ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। দেশবাসী তাদের প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনমত গঠন করে এবং তাদের বিস্তার রোধে অভিভাৱক মহলের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে।
ক. শিশুশ্রমের প্রথম ও প্রধান কারণ কী?
খ. নারীর প্রতি সহিংসতার প্রভাব ব্যাখ্যা করো?
গ. উদ্দীপকের প্রথম অংশে, নির্দেশিত 'সামাজিক সমস্যার কারণ চিহ্নিত কর।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানে গৃহীত পদক্ষেপই যথেষ্ট বলে কি তুমি মনে কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
ক) শিশুশ্রমের প্রথম এবং প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য।
খ) কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রে নারীর প্রতি সহিংসতা বিদ্যমান থাকলে সে সমাজের বা রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
নারীর জীবনে সহিংসতার প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। এতে নারীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয় এবং কখনো কখনো মৃত্যুরও কারণ হয়। সমাজে নারীরা সহিংসতার শিকার হওয়া মানে সে সমাজের সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটা। এ রকম সমাজে প্রতিনিয়ত নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়, উৎপাদন কমে যায়। কুসংস্কার ও ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি হয় এবং নতুন প্রজন্মের মেধার বিকাশ ঘটে না। এক কথায় সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর নারী সহিংসতা অত্যন্ত ভয়াবহ প্রভাব সৃষ্টি করে।
গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা জঙ্গিবাদকে নির্দেশ করে এবং ধর্মীয়, সাম্প্রদায়িক, রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের নামে গোষ্ঠীগত চেতনা থেকে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে।
জঙ্গিবাদ সাধারণত কোনো গোত্র বা গোষ্ঠী বা ধর্ম সম্প্রদায়ের বিশেষ অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সৃষ্ট নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ডকে বোঝায়। নিজেদের মতবাদ প্রতিষ্ঠায় জঙ্গিগোষ্ঠীর কর্মকান্ড রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির সম্মুখীন করে। যে সকল মতামত উদ্দেশ্য বা অধিকার সকলের জন্য নয়, রাষ্ট্র সমর্থন করে না, সকলের জন্য প্রযোজ্য নয়, সংস্কৃতি বহির্ভূত এমন কিছু উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠার জন্য জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়। জঙ্গিরা সাধারণ কোনো অঞ্চলে ভয়ংকর ত্রাস সৃষ্টি করতে চায়, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং তাদের মতবাদ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। জঙ্গিবাদ রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত 'জঙ্গিবাদ' সমস্যা মোকাবিলায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ও অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। যা জঙ্গিবাদ দমনে যথেষ্ট বলে আমি মনে করি।
মানুষ পরিবারে বাস করে এবং সমাজে চলাফেরা করে। ফলে পরিবার ও সমাজে যদি কারো চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করা হয়, তবে ব্যক্তির কর্ম, উদ্দেশ্য কিংবা মনোভাব সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।সমাজ ও পরিবারের সকলে যদি সতর্ক থাকে, তবে সহজেই কেউ নৈরাজ্যমূলক পরিকল্পনা করতে পারবে না। একটি শিশু পরিবারে বড় হয় এবং পারিবারিক আদর্শে গড়ে ওঠে, তাই বাবা-মা যদি শিশুদেরকে জঙ্গিবাদ সম্পর্কে সচেতন করেন, কিংবা সন্তানের গতিবিধি নজরে রাখেন তবে সহজেই সন্তান অন্যায় কাজের সাথে জড়িত হওয়ার সুযোগ পাবে না।
অর্থাৎ সমাজে জঙ্গিবাদ নিমূর্ল করতে হলে পরিবারকে সবচেয়ে সচেতন ও কার্যকরী দায়িত্ব পালন করতে হবে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, হলি আর্টিজান নামক রেস্টুরেন্টে জঙ্গিদের হামলায় ২২ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। এতে করে দেশে ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সারাবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত তরুণেরা যদি পরিবারে বাবা-মায়ের পর্যবেক্ষণাধীন থাকত, তবে এ রকম ভয়াবহ ঘটনা ঘটতো না। সমাজের প্রত্যেক স্তরে যদি মানুষ পর্যবেক্ষণ করে তাহলে জঙ্গিবাদ কখনোই অগ্রসর হতে পারবে না। এ আলোচনা দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে, জঙ্গিবাদ নিরসনে পরিবার ও সমাজের সচেতনতাই যথেষ্ট।
প্রশ্ন-
ঘটনা-১: গত কয়েকদিন আগে সবার সামনে একজন নিরপরাধ মানুষকে কয়েকজন বখাটে মিলে মারধর করল অথচ কেউ তাদের বাধা দিল না।
ঘটনা-২: কদমতলা এলাকার স্থানীয় কিছু বখাটের কারণে পুরো এলাকা অতিষ্ঠ। তারা বয়সে তাদের ছোটদের স্নেহ এবং বড়দের মতামতের প্রতি কোনো সম্মান প্রদর্শন করে না। এমনকি এলাকায় কোনো দরিদ্র লোক সাহায্য চাইলে কেউ সাড়া দেয় না।
ক. সামাজিক সমস্যা কাকে বলে?
খ. সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের ঘটনা দুটির সাথে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ধারণার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
ঘ. এই ধরনের সমাজে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দিন দিন বেড়ে যায়- উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
ক) সাধারণভাবে সমাজের জন্য ক্ষতিকর ও অসুবিধামূলক অবস্থা বা পরিস্থিতিকেই সামাজিক সমস্যা বলে।
খ) যেকোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত ব্যবহারের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়। যেমন-বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শন, ছোটদের প্রতি স্নেহ, মায়া-মমতা প্রভৃতি সামাজিক মূল্যবোধের উদাহরণ। এই মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
গ) উদ্দীপকে ঘটনা দুটির সাথে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ধারণার মিল রয়েছে।
সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের আচার-আচরণ এবং কার্যাবলিকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। যেকোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত ব্যবহারের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়।বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শন, ছোটদের প্রতি স্নেহ, মায়ের মমতা প্রভৃতি সামাজিক মূল্যবোধের উদাহরণ। আর এই প্রচলিত মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, যা সামাজিক অসঙ্গতির মূল কারণ।
এ ধরনের সমাজে সামাজিক সমস্যা দিন দিন বেড়ে যায়- উদ্দীপকের উক্তিটি যথার্থ।
ঘ) উদ্দীপকের ঘটনা দুটিতে মূল্যবোধের অবক্ষয় লক্ষ করা যায়। কারণ মূল্যবোধহীন মানুষই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না, ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান থেকে বিরত থাকে। দরিদ্র অসহায়কে সাহায্য করে না। যেসব সমাজে এই ধরনের মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা দেয় ঐসব সমাজে দিন দিন মানুষের অধিকার বঞ্চনা বেড়ে যায়। ঘুষ, দুর্নীতিতে গোটা সমাজ অচল হয়ে পড়ে। অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়।
সামাজের এমন পরিস্থিতিতে নিরাপরাধীরা শাস্তি পায়। সমাজজীবনে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দেশের সকল সেবাখাতের মান নিম্নমুখী হয়। সমাজে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বেড়ে যায়। অপহরণ, হত্যা, নির্যাতন, চুরি, ডাকাতি, ভিক্ষাবৃত্তি, অপরাধ, কিশোর অপরাধ, বেকারত্ব, পুষ্টিহীনতা, মাদকাসক্তির মতো বিভিন্ন সমস্যা গোটা সমাজব্যবস্থাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে।
প্রশ্ন-
আশকার একটি অফিসে চাকরি করে। সে নিয়মবহির্ভূত পন্থায় জনসাধারণ থেকে অর্থ আদায় করে। সাধারণ মানুষ বিরক্ত হলেও কাজ পাওয়ার আশায় তাকে কিছু বলে না। একদা জনাব ফিরোজ সাহেব টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে বলে আশকার সাহেব অবৈধ পন্থায় টাকা আদায় করে আপনি দেশ ও জাতির ক্ষতি করছেন।
ক. ক্রমে যৌতুক প্রথা কীসের হাতিয়ার রূপে পরিণত হয়েছে?
খ. 'সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়'- কথাটি বুঝিয়ে বল।
গ. উদ্দীপকে পাঠ্যপুস্তকের যে ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে তার ব্যাখ্যা দাও।
ঘ. আশকার সাহেবদের মতো লোকদের এমন আচরণ করার কারণগুলো আলোচনা কর।
ক) ক্রমে যৌতুক প্রথা সহিংসতার হাতিয়ার রূপে পরিণত হয়েছে।
খ) ভালো-মন্দ সঠিক-বেঠিক, কাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় সম্পর্কে সমাজের সদস্যদের যে ধারণা তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, অতিথির প্রতি সম্মান, ছোটদের প্রতি স্নেহ দেখানো প্রভৃতি সামাজিক মূল্যবোধের উদাহরণ। সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের মানুষের আচার-আচরণ এবং কার্যাবলিকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এই প্রচলিত মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
গ) উদ্দীপকের আশকার যে পন্থায় জনসাধারণ থেকে অর্থ আদায় করছে তার মাধ্যমে দুর্নীতির ধারণা প্রকাশিত হয়েছে।
দুর্নীতির শাব্দিক অর্থ নীতিহীনতা বা নীতিবহির্ভূত কাজ। ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অবৈধ পন্থায় নীতিবহির্ভূত বা জনস্বার্থবিরোধী কাজই দুর্নীতি।রাজনৈতিক এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রশাসনে দুর্নীতি বলতে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা লাভের জন্য কার্যালয়ের অপব্যবহারকে বোঝায়। সাধারণত ঘুষ, বলপ্রয়োগ বা ভয় প্রদর্শন, প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তি বিশেষকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে প্রশাসনের ক্ষমতা অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনকে দুর্নীতি বলে।
ঘ) উদ্দীপকের আশকার সাহেবের মতো অন্যান্য মানুষেরও দুর্নীতি তৎপরতার নানামুখী কারণ রয়েছে।
অর্থকষ্টের কারণে কোনো কোনো চাকরিজীবী দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে উপরি আয়ের চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে তারা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ফাইলের কাজের বিনিময়ে ঘুষ, বখশিশ, কমিশন, চা-নাস্তা বাবদ খরচ, দ্রব্যসামগ্রী প্রভৃতি আদায় করে থাকে।কখনো দুর্নীতিবাজরা ফাইল আটকে ঘুষ গ্রহণ করে। অনেকে বিলাসী জীবনযাপনের জন্য দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে।এছাড়াও পারিবারিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে, অধিক ধনী হওয়ার আশায়, এমনকি মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে অনেকেই এখন দুর্নীতির সাথে জড়িত। সর্বশেষ বলা যায়, দুর্নীতি আমাদের সমাজকে কলুষিত করেছে এবং বহুদিন ধরে বিরাজমান দুর্নীতি এখন অনেকটা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশ্ন-
সম্প্রতি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মিশুক মুনীর ও তারেক মাসুদ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। এতে মিডিয়ার একজন সমালোচক চালকের অদক্ষতা হিসেবে মানুষ ও গরু-ছাগলের পার্থক্য বুঝতে পারার অবস্থাকে চিহ্নিত করেন।
ক. AIDS-এর পূর্ণরূপ কী?
খ. নৈরাজ্য ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
গ. সমালোচকের বক্তব্যে সড়ক দুর্ঘটনার কোন কারণ চিত্রিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. বাংলাদেশে উক্ত ঘটনার জন্য বহুবিধ কারণ দায়ী- বক্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
ক) AIDS-এর পূর্ণরূপ হলো Acquired Immune Deficiency Syndrom.
গ) অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন চালকদের কারণে অনেক সড়ক দুর্ঘটনা স ঘটে থাকে। সমালোচকের বক্তব্যে এ কারণটিই চিত্রিত হয়েছে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি মারাত্মক সমস্যা। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ দায়ী থাকলেও দক্ষ চালকের অভাব অন্যতম কারণ। চালকদের অদক্ষতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনার হার দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘ) উদ্দীপকেও এ কারণটির প্রতি ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের শহরে যে হারে গাড়ি বেড়েছে সে হারে দক্ষ চালক তৈরি হয়নি। অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন চালককে দিয়ে গাড়ি চালানোর ফলে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গাড়ি চালানোর জন্য যে সকল আইন ও নিয়ম-নীতি রয়েছে তাও অধিকাংশ গাড়ি চালকেরা জানেন না। এ কারণে তারা কখনো কখনো মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকেন। তাছাড়া বাংলাদেশে অনেকেই কম বেতনে সনদবিহীন চালক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এসব চালকের অধিকাংশই তরুণ বয়সের, যারা রাস্তায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অন্য গাড়িকে ওভারটেক করে এবং বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে থাকে। উদ্দীপকেও সমালোচক ব্যক্তি চালকদের দক্ষতার অভাবের কথাই বলেছেন। তিনি সমালোচনা করে বলেছেন যে, গাড়ি চালকদের দক্ষতা হলো তারা কেবল মানুষ আর গরু-ছাগলের পার্থক্য বোঝে। অর্থাৎ গাড়ি চালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা দক্ষতা তাদের নেই। আর এটিই সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
ঘ) বাংলাদেশে উক্ত ঘটনার অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনার বহুবিধ কারণ বিদ্যমান।
সড়ক দুর্ঘটনা মানুষের জীবনে অকাল মৃত্যু ডেকে আনে। কখনো কখনো এর কারণে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় এবং জীবন হয়ে ওঠে অসহায়। আর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ঘটনাটি নানা ধরনের অসচেতনতামূলক কারণে প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে।
আমাদের দেশে অধিকাংশ ট্রাকচালক গাড়িতে পরিবহন সীমার অতিরিক্ত মাল বোঝাই করেন। আবার কোনো কোনো সময় খালি ট্রাকে যাত্রীবোঝাই করে গন্তব্যে পৌছান। এসব ট্রাকচালকের বিরাট অংশ আবার নেশায় আসক্ত। ফলে এদের কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক সময় স্বল্পশিক্ষিত গাড়ির মালিকেরা অতিরিক্ত লাভের আশায় চালকদের হাতে ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি ছেড়ে দেন। তাছাড়া হালকা বডির গাড়ি অনেক ক্ষেত্রে মহাসড়কে চলতে দেখা যায়। এ কারণেও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। আবার পথচারীদের মধ্যেও রয়েছে অসচেতনতা ও নিয়ম না মানার প্রবণতা। রাস্তার কোন পাশ দিয়ে চলতে হবে, কখন পারাপার হবে প্রভৃতি বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তাছাড়া রাস্তার প্রশস্ততা কম হওয়া, চলন্ত অবস্থায় চালকের সাথে কথা বলা, চালকের মোবাইলে কথা বলা, প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো, রাস্তার পাশে বাজার বসা, মহাসড়কে কম গতিসম্পন্ন গাড়ির উপস্থিতি প্রভৃতি কারণেও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।