দুধ একটি আদর্শ, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে বিবেচিত এবং এই দুধে প্রায় সব প্রকারের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান, তাই প্রয়োজনের তাগিদেই আমাদেরকে নিয়মিত সুস্থ গাভীর দুধ খেতে হবে। দুধ দেওয়া গাভীকে গুলানফোলা বা ম্যাস্টাইটিস রোগমুক্ত রাখতে হবে।
গাভীর ম্যাস্টাইটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কৌশল নিচে বর্ণনা করা হলো-
- দুধ দোহনের পূর্বে গাভীর ওলান, বাঁট ও দোহরকারীর হাত পানি ও জীবানুনাশক দ্বারা যৌত করতে হবে।
- প্রতি ১৫ দিন পরপর সার্ফ ফিল্ড ম্যাসটাইটিস টেস্ট এর মাধ্যমে দুধ পরীক্ষা করতে হবে।
- খামার সর্বদা পরিষ্কার-পরিচছন্ন রাখতে হবে, প্রতিদিন দুইবার গোবর শেড থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে ফেলতে হবে।
- সপ্তাহে একদিন খামারে জীবাণুনাশক স্প্রে (Farm 30, GPC ৪ ইত্যাদি- ৫ মিলি/লিঃ পানিতে) করতে হবে।
- দুধ দোহনের সাথে সাথেই গাভীকে খাবার দিয়ে প্রায় আধ ঘন্টা দাঁড়িয়ে রাখতে হবে।
- গাভীকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে ও গ্রোমিং (লোম আঁচড়িয়ে দেয়া) করতে হবে।
- আক্রান্ত গাভী থেকে সুস্থ গাভী আলাদা রাখতে হবে।
- আক্রান্ত গাভী সবশেষে দোহন করতে হবে ও নষ্ট দুখ জীবাণু নাশক যেমন ৫% ফেনল দিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখতে হবে।
- গাভীর ঠাসাঠাসি অবস্থায় পালন পরিহার করতে হবে।
- ডেয়রী খামারে নতুন গাভী যোগ করতে হলে সে গাভীর দুধ কমপক্ষে দুইবার পরীক্ষা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
- প্রতিটি গাভী দোহানের পরে গাভীর বাঁটকে কাপের জীবাণুনাশক সলুশনে ডুবিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। যাতে, পরবর্তী দুধ দোহন পর্যন্ত জীবাণুমুক্ত থাকে। এক্ষেত্রে, ক্লোরহেক্সাডিন ০.২% সলুশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এর সাথে ১৫% গ্লিসারিন মিশিয়ে ব্যবহারে বাঁটের ত্বক নমনীয় থাকে ও ফাঁটা প্রতিরোধ হয়।
- এরোগ প্রতিরোধে প্রত্যহ দুধ দোহন কালে প্রথমে দুধ স্ট্রিপ কাপ বা কালো কাপড়ে ছেঁকে পরীক্ষা করতে হবে।
- গাভীকে নিয়মিত ভিটামিন-ই ও সেলেনিয়াম খাওয়ালে এরোগ প্রতিরোধে সহায়ক হয়।
- দ্রুত আক্রান্ত গাভী সনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসা প্রয়োগে জীবাণু ধ্বংস করতে হবে এ ব্যাপারে একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করে খামারী তার আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেতে পারে।