হিটে আসার লক্ষ্মণ-
- বকনা বা গাভী অশান্ত হয়ে যাবে অর্থাৎ ডাকাডাকি করতে থাকবে।
- ঘন ঘন লেজ নাড়াবে।
- যোনিমুখ দিয়ে স্বচ্ছ কাঁচের মতো মিউকাস বা যোনি রস বের হয়ে আসবে।
- অন্য বকনা বা গাভীর উপর লাফ দিয়ে উঠতে চেষ্টা করবে।
- বার বার প্রস্রাব করবে।
- খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেবে।
- যোনিমুখ লাল, ফোলা ফোলা ও ভেজা থাকবে।
- অত্যন্ত সতর্ক হয়ে উঠবে ও কান খাড়া করে রাখবে।
- দুধ উৎপাদন কমে যাবে।
- অন্য গাভীর যৌনাঙ্গ শুঁকতে থাকবে।
বকনা বা গাভীর যোনি রস পরীক্ষা-
গাভী বা বকনা যখন ঋতুপ্রাপ্ত হবে তখন কাঁচের মতো স্বচ্ছ পিচ্ছিল তরল পদার্থ অর্থ্যাৎ মিউকাস বের হয়ে আসবে। যদি মিউকাস স্বচ্ছ ও পরিষ্কার হয় তবে বুঝে নিতে হবে যে বকনা বা গাভীটি গরম হয়েছে বা হিটে এসেছে। আর যদি মিউকাস অস্বচ্ছ বা রক্তমিশ্রিত বা অন্য বর্ণের হয় তবে বুঝতে হবে যে গাভীর প্রজনন অঙ্গে কোনো প্রদাহ আছে। এ অবস্থায় প্রথমে গাজীকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তারপর প্রজনন করাতে হবে।
বকনা বা গাভীর ঋতুকালীন সময়ে ডিম্বাশয়ের পরীক্ষা-
বকনা বা গাভী গরম হলে রেকটাল পালগেশনের (rectal palpation) মাধ্যমে অর্থাৎ পায়ুপথে হাত ঢুকিয়ে ডিম্বাশয় অতি সাবধানে স্পর্শ করলে সহজেই বোঝা যাবে যে গাভীটি ঋতুচক্রের কোন পর্যায়ে রয়েছে। যদি গ্রাফিয়ান ফলিকুল (graafian follicle) বা পরিপক্ক ডিম্বাণু ডিম্বাশয়ের দেয়াল ভেদ করে উঁচু হয়ে থাকে তবে বোঝা যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ডিম্বস্ফোটন হবে। আর যদি করপাস লুটিয়ামের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় তবে বুঝতে হবে যে ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন হয়ে গেছে এবং গরম হওয়া, ইস্ট্রাস বা হিট শেষ হয়ে গেছে। এসময় গাভীকে পাল দিলেও গাভী গর্ভধারণ করবে না।
গাভী বা বকনার ঋতুকালীন সময়ে জরায়ু পরীক্ষা-
রেকটাল পালপেশনের মাধ্যমে ঋতুকালীন সময়ে জরায়ুতে হাত দিয়ে গাভীর ঋতুচক্রের অবস্থা নিরূপণ করা যায়। যদি জরায়ুতে হাত দিলে জরায়ুর সংকোচন ও প্রসারণ টের পাওয়া যায় তাহলে বুঝতে হবে বকনা বা গাভী গরম হয়েছে বা হিটে এসেছে। আর যদি জরায়ু স্থির ও শক্ত হয়ে যায় তবে বুঝতে হবে যে হিট নষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় প্রজনন করালেও গাভী গর্ভবতী হবে না।